
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল,
রংপুর:
রংপুরে পৈতৃক ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হামলা, মামলা, ভয়ভীতি ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগের পর এবার আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার তফসিলভুক্ত জমিতে বাদীপক্ষকে বেদখল, জমি বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি ও আকার-আকৃতি পরিবর্তন থেকে ১ নম্বর বিবাদীকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
গত ২১ জুলাই রংপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দায়ের করা মোকদ্দমা নং-১০২/২০২৬-এর শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে মামলার ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে বাদীপক্ষকে বেদখল করা, নালিশি সম্পত্তি বিক্রি, আকার-আকৃতি পরিবর্তন কিংবা যেকোনো ধরনের হস্তান্তর থেকে ১ নম্বর বিবাদী-প্রতিপক্ষকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার ‘খ’ তফসিলে রংপুর সদর থানার উত্তম মৌজার জে.এল. নং-৫২, সি.এস. খতিয়ান নং-১২৪৫, এস.এ. খতিয়ান নং-১২৫৩, আর.এস. খতিয়ান নং-৫০/১, সাবেক দাগ নং-৪২১৯ ও হাল দাগ নং-৭২৫৮ উল্লেখ রয়েছে। তফসিলভুক্ত জমির পরিমাণ ৫৩ একরের মধ্যে ৪৭ একর বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন রংপুর মহানগরের হাজিরহাট মেট্রো থানার হুসনা বাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে গোলাম সারোয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বায়নাপত্র করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমির পুরো মূল্য পরিশোধ না হলেও পরবর্তী সময়ে জমি দখল ও অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১০ জুন তাঁদের বসতভিটা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের কাছে জমির বৈধ দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের অবসান ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তাঁরা পুলিশ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আদালতের আদেশের বিষয়ে উপস্থিত এসআই জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
আদালতের আদেশ পাওয়ার পর মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা বলেন, ‘ওরা প্রভাবশালী। যখন-তখন আমাদের ওপর অত্যাচার করে। আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাব।’
তবে জমি নিয়ে ওঠা অভিযোগ, হামলা, মামলা ও হয়রানির বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।
আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল, বিক্রি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।