
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগঞ্জে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে প্রসূতি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নানা অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কেন্দ্রটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুল হাসান।
মৃত প্রসূতি শ্রাবণী (১৯) উপজেলার প্রজাপাড়া এলাকার রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের মেয়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রসববেদনা উঠলে তাঁর মা শিমা বেগম ও খালা তাঁকে হেঁটে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শ্রাবণীকে সিজার করানোর কথা বলে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। একপর্যায়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে রংপুরে পাঠানো হয়।
শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, তাঁকে ওষুধ কেনার জন্য বাইরে পাঠানো হয়েছিল। ফিরে এসে তিনি দেখেন, তাঁর মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে এবং মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। কী হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা শ্রাবণীকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিনই তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের জন্য একাধিকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।
পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে পৌরসভার তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, শ্রাবণী এক্লাম্পসিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে তাঁর খিঁচুনি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সিভিল সার্জনের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার শ্রাবণীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নগর মাতৃসদন কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মাহমুদুল হাসান নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।