dailykagojkolom.com
সর্বশেষ :
dailykagojkolom.com এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।
শিরোনাম :
২০২৭ সাল থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা জমি দখলের অভিযোগ, গুজব ছড়িয়ে মব তৈরির চেষ্টা পাগলাপীরে নজরুলের চেতনায় নতুন প্রজন্ম, গঙ্গাচড়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‎ গঙ্গাচড়ায় ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সব সম্ভব টাকায় গঙ্গাচড়ায় দুঃস্থদের মাঝে ডাসের উদ্যোগে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ দিনাজপুরে আফাআউস কার্যালয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ দিনাজপুরে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের নবনির্বাচিত কমিটির মতবিনিময় মেলা নিয়ে অভিযোগের জবাব, নথিপত্রসহ তদন্ত দাবি কৃষক দল নেতার ‎ পুঁজি কেন দেশ ছাড়বে না—দেশকে আগে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ করতে হবে

তেলের টাকা থেকে সমৃদ্ধি: নরওয়ে কীভাবে পারল, বাংলাদেশ কী শিখতে পারে?

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত
তেলের টাকা থেকে সমৃদ্ধি: নরওয়ে কীভাবে পারল, বাংলাদেশ কী শিখতে পারে?

সম্পাদকীয়ঃ

নরওয়ের মাটির নিচে তেল আছে—এটাই তাদের সাফল্যের পুরো গল্প নয়। পৃথিবীর বহু দেশে তেল আছে, কিন্তু সবাই নরওয়ের মতো সমৃদ্ধ হতে পারেনি। নরওয়ের আসল সাফল্য তেল পাওয়ায় নয়; তেলের সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করেছে, সেখানে।
নরওয়ে তেল-গ্যাসকে শুধু বর্তমানের ভোগের টাকা হিসেবে দেখেনি। তারা এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তেল থেকে পাওয়া বিপুল অর্থের বড় অংশ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলে সংরক্ষণ ও বিনিয়োগ করেছে। ফলে আজকের তেল শেষ হয়ে গেলেও সম্পদের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতেও আয় তৈরি করবে।
বাংলাদেশের শিক্ষা কোথায়?
বাংলাদেশেরও প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের অভাব নেই। আমাদের রয়েছে—
উর্বর কৃষিজমি
নদী ও জলসম্পদ
মৎস্যসম্পদ
গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ
বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী
সমুদ্রবন্দর ও বঙ্গোপসাগর
তৈরি পোশাক শিল্প
প্রবাসী শ্রমিক ও বিপুল রেমিট্যান্স
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা এসব সম্পদ থেকে কতটা দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সম্পদ তৈরি করতে পারছি?
১. সম্পদ বিক্রি নয়, সম্পদ থেকে সম্পদ তৈরি
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ পুরোটা খরচ করে ফেলা যাবে না।
বাংলাদেশ যদি গ্যাস, খনিজ, সমুদ্রসম্পদ কিংবা অন্য কোনো বড় প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অতিরিক্ত আয় পায়, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ জাতীয় ভবিষ্যৎ তহবিলে রাখা যেতে পারে।
সেই অর্থ দেশ-বিদেশে স্বচ্ছ ও নিরাপদ বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
আজকের আয় যেন শুধু আজকের খরচ না হয়—
আজকের আয় যেন আগামী দিনের সম্পদ হয়।
২. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো সম্পদই আশীর্বাদ নয়
একটি দেশের সম্পদ যত বড়ই হোক, যদি দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে—তাহলে সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে পৌঁছাবে না।
তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে:
“সম্পদ ব্যবস্থাপনার আগে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার সংস্কার।”
সরকারি প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়, নিম্নমানের কাজ, কমিশন, ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধ না হলে উন্নয়নের টাকা উন্নয়নেই ফিরে আসবে না।
৩. তেলের বদলে মানুষকে সম্পদ বানানো
নরওয়ের হাতে তেল আছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ।
বাংলাদেশ যদি শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হতে পারে।
একজন দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে গিয়ে যে আয় করেন, একজন অদক্ষ শ্রমিক তার তুলনায় অনেক কম আয় করেন।
তাই শুধু শ্রমিক রপ্তানি নয়—
দক্ষ প্রকৌশলী, নার্স, আইটি বিশেষজ্ঞ, টেকনিশিয়ান, মেরিন কর্মী ও পেশাজীবী তৈরি করতে হবে।
৪. রেমিট্যান্সকে শুধু খরচ নয়, বিনিয়োগে আনতে হবে
প্রবাসীরা বিপুল অর্থ দেশে পাঠান। কিন্তু সেই অর্থের বড় অংশ যদি শুধু ভোগে ব্যয় হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি হয় না।
রাষ্ট্র ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা এমন সুযোগ তৈরি করতে পারে, যাতে প্রবাসীরা সহজে—
শিল্পে বিনিয়োগ
কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ
আবাসন
প্রযুক্তি ব্যবসা
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
অবকাঠামো
খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
তাহলে রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রা হবে না, জাতীয় মূলধনে পরিণত হবে।
৫. কৃষিকে কাঁচামাল থেকে শিল্পে নিতে হবে
বাংলাদেশে ধান, পাট, ভুট্টা, মাছ, ফল, সবজি—সবই উৎপাদন হয়। কিন্তু আমরা অনেক ক্ষেত্রেই কাঁচা পণ্য বিক্রি করি।
নরওয়ের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও ভাবতে হবে—
কাঁচামাল বিক্রি নয়, মূল্য সংযোজন করে পণ্য বিক্রি।
যেমন ভুট্টা শুধু বিক্রি না করে—
ভুট্টা → পশুখাদ্য → স্টার্চ → কর্নফ্লেক্স → তেল → শিল্পের কাঁচামাল।
একইভাবে মাছ, দুধ, ফল, সবজি ও কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে বিশাল agro-processing শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।
৬. সমুদ্রকে অর্থনীতির নতুন দরজা বানাতে হবে
বাংলাদেশের সামনে বঙ্গোপসাগর। কিন্তু সমুদ্রকে শুধু মাছ ধরার জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না।
সমুদ্র অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে—
মৎস্য + সামুদ্রিক পরিবহন + বন্দর + জাহাজ নির্মাণ + জাহাজ মেরামত + সামুদ্রিক পর্যটন + অফশোর জ্বালানি + সামুদ্রিক প্রযুক্তি।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে Blue Economy একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
৭. উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-সেতু নয়
একটি দেশ কত কিলোমিটার রাস্তা বানিয়েছে—এটাই উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—
সেই রাস্তা কত মানুষের আয় বাড়িয়েছে?
কত নতুন শিল্প তৈরি করেছে?
কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে?
কত রপ্তানি বাড়িয়েছে?
অর্থাৎ প্রকল্পের মূল্যায়ন করতে হবে Return on Investment বা বিনিয়োগের অর্থনৈতিক ফল দিয়ে।
শেষ কথা
নরওয়ের গল্প আমাদের শেখায়—
প্রাকৃতিক সম্পদ একটি সুযোগ, কিন্তু সুশাসন ছাড়া সেই সুযোগ অভিশাপে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশের হয়তো নরওয়ের মতো তেলের মজুত নেই। কিন্তু আমাদের আছে কোটি কোটি মানুষ, উর্বর মাটি, সমুদ্র, কৃষি, মৎস্য, শিল্প, প্রবাসী শ্রমশক্তি এবং তরুণ প্রজন্ম।
আমাদের প্রয়োজন শুধু একটি পরিবর্তিত চিন্তা—
“আজ কত টাকা আয় করলাম”—এই প্রশ্নের বদলে
“আজ কত সম্পদ তৈরি করলাম, যা আগামী প্রজন্মকে আয় দেবে”—এই প্রশ্ন করতে হবে।
নরওয়ে তেলের টাকা দিয়ে ভবিষ্যৎ কিনেছে।
বাংলাদেশকে মানুষ, জ্ঞান, দক্ষতা ও সুশাসন দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।

আল আমিন মিলু
নির্বাহী সম্পাদক

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2026 dailykagojkolom.com
Design & Development By HosterCube Ltd.