নির্বাসিত জোছন
আল আমিন মিলু
রচনা কাল :৮আগষ্ট ২০২৬
তোমার সাথে বসে
জোছনা রাতের যে সৌন্দর্য
কত আদরে কাব্যের পাতায় বুনেছিলাম—
আজ সেই কবিতাগুলো
ধুলোয় পড়ে থাকা শুকনো পাতার মতো,
ছুঁলেই ঝরে পড়ে
আমার বুকের ভেতর।
মনে আছে?
সেদিন চাঁদটা কত কাছে ছিল—
তোমার মুখে লেগে থাকা জোছনা
আমার চোখে যেন
ভালোবাসার পূর্ণিমা হয়ে নেমেছিল।
আমি তোমার হাত ধরে বলেছিলাম—
“এই রাতটা যদি থেমে যেত!”
তুমি হেসে বলেছিলে—
“রাত থামবে না,
তবে আমরা তো একসাথে থাকব…”
আজ বুঝি—
রাত থামেনি,
চাঁদও হারায়নি,
শুধু হারিয়ে গেছে
আমাদের সেই ‘একসাথে’।
আজও পূর্ণিমা আসে—
নদীর বুকে রুপোর ঢেউ ওঠে,
কাশবনে জোছনা নামে
দুধসাদা বিষাদের মতো;
শুধু আমার পাশে
তোমার জন্য রাখা জায়গাটুকু
অন্ধকার হয়ে থাকে।
তোমার সাথে লেখা
সেই প্রেমের কবিতাগুলো
এখন আমার কাছে
একেকটি নির্বাসিত পাখি—
ডানা আছে,
আকাশ নেই;
গান আছে,
শ্রোতা নেই।
কখনো কখনো
পুরোনো পাতাগুলো খুলে বসি—
তোমার নামের পাশে
আমার কাঁপা অক্ষরগুলো দেখি;
মনে হয়,
কাগজটা নয়—
আমি নিজেই যেন
ধুলোয় মিশে যাচ্ছি।
তুমি জানো না—
তোমাকে হারানোর পর
জোছনাকে আমি কতবার অভিশাপ দিয়েছি!
কারণ চাঁদ উঠলেই
তোমার মুখ মনে পড়ে,
বাতাস এলেই
তোমার চুলের গন্ধ খুঁজি,
আর রাত গভীর হলেই
মনে হয়—
এই বুঝি দরজায় কড়া নাড়বে তুমি!
কিন্তু দরজা খোলে না—
খোলে শুধু স্মৃতির জানালা।
সেখানে তুমি আছো—
ঠিক আগের মতো,
হাসছো,
হাত বাড়াচ্ছো,
বলছো—
“এভাবে ভালোবাসবে তো সারাজীবন?”
আর আমি—
প্রতিবারের মতোই
অশ্রুসিক্ত চোখে
মাথা নাড়িয়ে বলি—
“হুম…”
তারপর ঘুম ভেঙে যায়।
চাঁদটা তখনও আকাশে থাকে,
শুধু তুমি থাকো না।
তাই আজ
আমার আকাশে জোছনা উঠলেও
আমি তাকে স্বাগত জানাই না—
যে জোছনায় তুমি ছিলে,
সে জোছনা আজ আমার কাছে
বিরহের আগুন;
চাঁদ আছে, রাত আছে,
আমিও আছি—
শুধু তুমি নেই বলে
আমার সমস্ত পূর্ণিমা
আজীবনের জন্য
নির্বাসিত।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর